এনজিওসমূহ জাতীয় উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সরকারি প্রচেষ্টার সম্পূরক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে রূপকল্প-২০২১

প্রকাশন তারিখ : 2014-06-16

বিবৃত আছে যে এনজিওসমূহ জাতীয় উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সরকারি প্রচেষ্টার সম্পূরক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে রূপকল্প-২০২১ সম্ভাব্য উচ্চতম প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম একটি দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি দারিদ্রের লজ্জা ঘুচিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। রূপকল্প-২০২১ দরিদ্র বিমোচন জাতীয় কৌশল পত্র- ২ (সংশোধিত)-তে মূল পথ নির্দেশিকা হয়ে আছে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সকল দেশী এবং বিদেশী এনজিওকে এবং এদেরকে সহায়তা দানকারী দাতা সংস্থা/ব্যক্তিবর্গ-কে রূপকল্প-২০২১ এর আলোকে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছে।
আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে। সংকট মোকাবেলা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশ সরকার রূপকল্প-২০২১ প্রণয়ণ করছে যেখানে সম্ভাব্য উচ্চতম প্রবৃদ্ধি অর্জনে একটি দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি দারিদ্রের লজ্জা ঘুচিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবে। রূপকল্প-২০২১ এর মাইলফলক বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্রে ২ (সংশোধিত)-এ করত: তা সকল উন্নয়ন কর্মসূচির ‘‌লক্ষ্য বিন্দু’তে পরিণত হয়েছে। এনজিওগুলো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম রূপকল্প-২০২১ এর কতিপয় মাইলফলক নিম্নরূপ:
২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তির হার হবে ১০০ শতাংশ;ü
২০১১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হবে;ü
২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে;ü
২০১৩ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে;ü
২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে;ü
২০১৫ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে;ü
২০২১ সালের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমান ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে;ü
২০২১ সাল নাগাদ বর্তমান দারিদ্রের হার ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামবে;ü
২০২১ সালে তথ্য-প্রযুক্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করবে;ü
২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ নাগরিকের মানসম্পন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত হবে;ü
২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ২১২২ কিলো ক্যালোরির উর্দ্ধে খাদ্য নিশ্চিত করা হবে;ü
২০২১ সালের মধ্যে সকল প্রকার সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে;ü
২০২১ সালে শিশু মৃত্যুর হার বর্তমান হাজারে ৫৪ থেকে কমিয়ে ১৫ করা হবে;ü
২০২১ সালে মাতৃ মৃত্যুর হার ৩.৮ থেকে কমে হবে ১.৫ শতাংশ; এবংü
২০২১ সালে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।ü
বাংলাদেশে এনজিওগুলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, বিশেষত: দরিদ্র জনগোষ্ঠি, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক খাতের প্রায় সকল ক্ষেত্রে যথাসাধ্য কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। সার্থকতার সাথে human Poverty হ্রাসে অবদান রেখেছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। এর পরো চ্যালেঞ্জ থেকে যায়।
রূপকল্প-২০২১ এর মাইলফলক অর্জনের লক্ষে এনজিওসমূহকে আগামী বছরগুলোতে অতিউপযুক্ত ও দৃশ্যমান কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অধিকহারে আয়বৃদ্ধিমূলক ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এনজিওসমূহকে নিজেদের কাজের মধ্যে ও সরকারী কাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধানকরত: পরিকল্পনাকালে এবং বাস্তবায়নকালে কাজের অগ্রাধীকার নির্ধারণ, দুর্যোগ-দারিদ্র-মঙ্গা এলাকার প্রতি দৃষ্টিপাত, কর্ম এলাকা ও কর্মসূচির দ্বৈততা পরিহারের আহ্‌বান জানানো যাচ্ছে। যাতে করে সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্পদ তৃণমূল পর্যায়ে ধাবিত হয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য ব্যবহার হয়।
একই সাথে এনজিওগুলোর অর্থায়নকারী দাতা সংস্থাসমূহকে রূপকল্প-২০২১ এর মাইলফলক অর্জনে ও দ্রুত দারিদ্র নিরসনে সর্বোচ্চ সহযোগীতা প্রদানের জন্য উদাত্ত আহ্‌বান জানানো যাচ্ছে। পাশাপাশি এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অদুর ভবিষ্যতে এনজিওসমূহেক দ্রুততার সাথে সেবাদানে বদ্ধপরিকর।

মহাপরিচালক
এনজিও বিষয়ক ব্যুরো
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

Share with :